বিপিএল নিলামের মঞ্চ জমে উঠতে দেরি হয়নি। নাম ঘোষণা হলো—লিটন দাস। মুহূর্তেই আলোচনার ঝড়। গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ঝোড়ো অর্ধশতক এখনো ক্রিকেটভক্তদের চোখে ভাসছে। এমন একজন ফর্মে থাকা ওপেনারকে যে দল দলে ভিড়াবে, তাদের ভাগ্য বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
অনেকে মনে করেছিলেন লিটনকে ঘিরে হবে তুমুল দর-কষাকষি। কিন্তু নিলামের পরিবেশ ছিল আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত। আলোচনার বাইরে গিয়ে সোজাসুজি ৭০ লাখ টাকায় তাঁকে টেনে নিল রংপুর রাইডার্স। যেন তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল—সিদ্ধান্ত স্পষ্ট, টার্গেট নির্দিষ্ট।
গত মৌসুমে লিটন ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অধিনায়ক, সামলেছেন ব্যাটিং, কিপিং আর ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত—সবই। এবারের নিলামে রংপুর যেন ঠিক এই অভিজ্ঞতাটাই কাজে লাগাতে চাইছে। কারণ লিটন শুধু রানের উৎস নন, তিনি মাঠের লয়ে ও ড্রেসিংরুমের আবহেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
এরপরই দ্বিতীয় আঘাত—তাওহীদ হৃদয়। তরুণ, আগ্রাসী, আত্মবিশ্বাসী ব্যাটার। ভিত্তিমূল্য ৩৫ লাখ হলেও তাঁকে নিতে রংপুরের দিতে হয়েছে ৯২ লাখ টাকা। তাঁদের পরিকল্পনাটা এখানে পরিষ্কার—একজন অভিজ্ঞ ওপেনার, এক তরুণ উদীয়মান তারকা, সঙ্গে দুজন অভিজ্ঞ দেশি খেলোয়াড়—এভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে শক্তিশালী ব্যাটিং ব্যাকবোন।
সরাসরি চুক্তিতে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান—যাঁর বোলিং এখনও দেশের সেরা অস্ত্র—এবং উইকেটকিপার-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। বিদেশিদের দিক থেকেও রংপুর দলটি ভারসাম্যপূর্ণ, কারণ খাজা নাফে ও সুফিয়ান মুকিম দুজনই অভিজ্ঞ ও বহুমুখী ক্রিকেটার।
রংপুর রাইডার্সের নিলামের শুরুটা এমন ছিল যেন তারা সবাইকে দেখিয়ে দিতে চায়—এবার তারা সুযোগ নিতে এসেছে, হারাতে নয়। আর সেই পথচলার প্রথম দুই ধাপেই লিটন ও হৃদয়কে দলে ভেড়ানো নিশ্চিতভাবেই এক কৌশলগত মাস্টারস্ট্রোক।
