ভারতের ক্রিকেট মহলে এক নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন বিরাট কোহলি। দীর্ঘ ১৫ বছর পর তিনি অংশ নিতে যাচ্ছেন দেশের অন্যতম প্রধান লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট, বিজয় হাজারে ট্রফিতে। যদিও শুরুতে কোহলি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছিলেন তিনি এই টুর্নামেন্ট খেলতে চান না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের কঠোর নীতির সামনে আর দাঁড়াতে পারেননি।
গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন—সিনিয়র বা জুনিয়র সবাইকে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতেই হবে। জাতীয় দলে টিকে থাকতে চাইলে নিজের রাজ্যের ক্রিকেটের প্রতি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তার এই সিদ্ধান্ত রোহিত শর্মা আন্তরিকভাবে মেনে নিলেও কোহলি শুরুতে আপত্তি জানান।
ভারতীয় মিডিয়ার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচন কমিটিকে প্রথমেই ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলার ইচ্ছা জানিয়ে দেন রোহিত শর্মা। তবে একই সময়ে কোহলি জানান, তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। এই বিপরীত সংকেতই গম্ভীরকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। কারণ একজন খেলোয়াড় নিয়ম মানবেন, আরেকজন মানবেন না—এটি দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে পারে।
সূত্র জানায়, নির্বাচকদের সঙ্গে বৈঠকে গম্ভীর সরাসরি বলেন, “রোহিত খেললে কোহলিও খেলতে হবে। নাহলে নিয়ম শুধু নামেই থাকবে।” এর ফলে কোহলিকে বাধ্য হয়েই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়।
২০১০ সালে সর্বশেষ বিজয় হাজারে খেলেছিলেন কোহলি। ১৪ ম্যাচে চার সেঞ্চুরি, তিন ফিফটি এবং ৬৮.২৫ গড় তাকে এই ফরম্যাটে অনন্য উচ্চতায় দাঁড় করিয়েছিল। কিন্তু আইপিএল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততায় এরপর আর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরা হয়নি।
এবার দিল্লির হয়ে তিনি ‘ডি’ গ্রুপে খেলবেন—প্রতিপক্ষ দলে গুজরাট, সৌরাষ্ট্র, সার্ভিসেস, রেলওয়েজ, ওডিশা, হরিয়ানা ও অন্ধ্র। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ২৪ ডিসেম্বর এবং দিল্লির প্রথম ম্যাচ অন্ধ্রের বিপক্ষে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ ডিসেম্বর ওয়ানডে সিরিজ শেষ হলে কোহলির হাতে থাকবে ভালো প্রস্তুতির সময়। যদিও ইচ্ছার বিরুদ্ধে খেলতে নামা একজন ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স কেমন হবে—তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।
তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, কোহলির মতো খেলোয়াড় ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেললে এর প্রভাব আরও গভীর। দিল্লির তরুণ খেলোয়াড়রা তার সঙ্গে অনুশীলন করে অমূল্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। অন্যদিকে ভারতীয় দলের সিনিয়ররা যদি নিয়ম মানেন, তবে জুনিয়রদেরও অনুশাসন মেনে চলতে উৎসাহিত করবে।
গম্ভীরের কঠোরতার পেছনে আরেকটি কারণও আলোচিত—ভারতীয় ক্রিকেটে অনুশাসন ফিরিয়ে আনা। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ক্রিকেটার ঘরোয়া ক্রিকেট এড়িয়ে গেছেন, যা বোর্ডকে উদ্বিগ্ন করেছে।
সব মিলিয়ে, কোহলির বিজয় হাজারে ট্রফিতে ফেরা শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি ভারতীয় ক্রিকেট সংস্কৃতির একটি বড় পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি।
