একসময় বিশ্ব ক্রিকেটের আঙিনায় দোর্দণ্ড প্রতাপে রাজত্ব করেছে পাকিস্তান পুরুষ ক্রিকেট দল। ইমরান খানের মতো ক্যারিশম্যাটিক নেতা; জাভেদ মিয়াঁদাদ, সাঈদ আনোয়ার কিংবা ইনজামাম-উল-হকের মতো বিশ্বমানের ব্যাটার এবং শোয়েব আখতার, ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুসের মতো বিধ্বংসী ফাস্ট বোলাররা ছিলেন প্রতিপক্ষের জন্য এক জীবন্ত আতঙ্ক। তবে পাকিস্তান ক্রিকেটের সেই সোনালী সূর্য এখন অনেকটাই অস্তমিত। দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো টুর্নামেন্টে দলটির বলার মতো কোনো সাফল্য নেই। পুরুষ দলের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার কালো ছায়া এবার গ্রাস করেছে তাদের নারী ক্রিকেট দলকেও। মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে বিতর্ক আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এখন দলটির নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইংল্যান্ডের মাটিতে চলমান নারী টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল এখনো পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি। শুধু এই বিশ্বকাপই নয়, এর আগে আয়ারল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও দলটির পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। মাঠের এই ভরাডুবির মধ্যেই যুক্ত হয়েছে গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এবং দলের ভেতরের চরম বিশৃঙ্খলা।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক আগের দিন। পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আলিয়া রিয়াজ টিম হোটেলের নিজস্ব রুমে তার স্বামী আলী ইউনুসকে নিয়ে আসেন। বিষয়টি নজরে আসতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের তরুণ অধিনায়ক ফাতিমা সানা। আইসিসির মেগা টুর্নামেন্টে দলের কঠোর শৃঙ্খলা প্রটোকল বজায় রাখার স্বার্থে তিনি আলী ইউনুসকে অবিলম্বে রুম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু অধিনায়কের এই আদেশকে পাত্তাই দেননি আলিয়া। উল্টো ম্যাচের আগের দিন নির্ধারিত অফিশিয়াল অনুশীলন সেশন ফাঁকি দিয়ে তিনি স্বামীকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে চলে যান।
সিনিয়র খেলোয়াড়ের এমন খামখেয়ালি আচরণে অধিনায়ক ফাতিমা সানা স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আলিয়া রিয়াজকে একাদশের বাইরে রাখতে চেয়েছিলেন। তবে এই দল নির্বাচন নিয়ে কোচ এবং দলের বর্তমান মেন্টর ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে অধিনায়কের তুমুল মতবিরোধ তৈরি হয়। ফাতিমার জোরালো আপত্তি ও পরামর্শকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কোচ শেষ পর্যন্ত আলিয়াকে একাদশে রেখেই দল চূড়ান্ত করেন।
মাঠের লড়াইয়ে এর চড়া মূল্য চুকাতে হয় পাকিস্তানকে। বাংলাদেশের কাছে ২৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায় তারা। পুরো ম্যাচে আলিয়া রিয়াজ কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরাজয়ের পর অধিনায়ক ফাতিমা সানা সবার সামনে কোচের ওপর নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, কোচের খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত এবং টিম প্রটোকল ভাঙার প্রশ্রয় দেওয়ার কারণেই দলকে এই লজ্জাজনক হারের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে এবং কোচের সঙ্গে ক্রিকেটারদের বহুমুখী দ্বন্দ্ব এখন পুরোপুরি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। অবশ্য কোচ এই ব্যর্থতার দায় নিজের ঘাড়ে নিতে নারাজ। তার পাল্টা দাবি, ক্রিকেটাররা মাঠের ভেতরে কোচের দেওয়া পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছেন না বলেই দল বারবার হারছে। এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দলের এই চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তারা বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই না করে চুপচাপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। গত তিন-চার বছরে বারবার কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তন করেও পাকিস্তান নারী ক্রিকেটের এই অধঃপতন ও বিশৃঙ্খলা থামানো যাচ্ছে না।
![টিম হোটেলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ নিয়ে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলে তীব্র কোন্দল 1 টিম হোটেলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ নিয়ে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলে তীব্র কোন্দল 1 Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://test.sportsgoln.com/wp-content/uploads/2026/06/টিম-হোটেলের-শৃঙ্খলা-ভঙ্গ-নিয়ে-পাকিস্তান-নারী-ক্রিকেট-দলে-তীব্র-কোন্দল-1.png)