ওয়ানডে ছাড়ার পর কোহলির টেস্ট অবসর কি ভুল সিদ্ধান্ত?

ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান সিরিজে ভারতের ব্যাটিং ধসে গেছে। গৌহাটি টেস্টে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২০১ রানে অল আউট হওয়ার পর প্রোটিয়ারা ৪৮৯ রানের বিশাল লিড নিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসের শেষে ভারতের অবস্থান ২৬/০, মোট লিড ৩১৪, যা প্রমাণ করছে যে ভারত দুই দিনের মধ্যে হারের ফাঁদে রয়েছে।

এই পরিস্থিতি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভারতের সাবেক ব্যাটার শ্রীভাতস গোস্বামী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “বিরাট কোহলিকে ওয়ানডে ছেড়ে, টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর নেতৃত্ব, আবেগ, এবং উদ্দীপনা আজ সবচেয়ে বেশি মিস হচ্ছে।”

কোহলির অভাব এখন মাঠে স্পষ্ট। ভারতের ব্যাটিং লাইন নবাগত ও তরুণ খেলোয়াড়ের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করছে। বিশেষ করে ঋষভ পান্তের অধীনে ব্যাটিং লাইন স্থিতিশীল নয়। প্রতিপক্ষের বোলিং-এ ভারত বারবার ভেঙে পড়ছে।

প্রাক্তন ক্রিকেটাররা মনে করছেন, কোহলির অভিজ্ঞতা এবং মাঠে নেতৃত্ব ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একটি টেস্ট ম্যাচে শুধু ব্যাটিং নয়, স্ট্র্যাটেজি এবং মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন। কোহলি এই দুই দিকেই দলের জন্য অবদান রেখেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ধারাবাহিক হারের সম্ভাবনা ভারতের ক্রিকেট সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গোস্বামীর বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—ভারত কি কোহলিকে পুনরায় টেস্ট দলে আনবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য তাঁর অভিজ্ঞতা অপরিহার্য।

পরিসংখ্যানেও ভারতের অবস্থা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ইনিংসে ২০১ রানে অল আউট, দ্বিতীয় ইনিংসে লিড ৩১৪ — এরকম ব্যবধান বোঝাচ্ছে যে ভারত ধারাবাহিকতা হারিয়েছে। কোহলির নেতৃত্ব এখন এক বড় শূন্যস্থান।

এই অবস্থায় প্রশ্ন একটাই—কোহলিকে ফিরানো কি ভারতের টেস্ট ক্রিকেটকে নতুন জীবন দিতে পারে? সমালোচকরা মনে করছেন, দলের ভিতর নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞতা ছাড়া ভারত হয়তো বড় টেস্ট সিরিজ হারের ধারাবাহিকতা চালিয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন