দল থেকে বাদ পড়ে নারী ক্রিকেটার ইশমা তানজিমের আত্মহত্যার চেষ্টা

বাংলাদেশ নারী ইমার্জিং ক্রিকেট দলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার ক্ষোভ ও চরম হতাশায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার ইশমা তানজিম। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ ফিট থাকা সত্ত্বেও কেবল ইনজুরির অজুহাতে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতর নানান অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন ২৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী ইমার্জিং ক্রিকেট দল। প্রথম ধাপের ২৭ জনের প্রাথমিক স্কোয়াডে ইশমা তানজিম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে দ্বিতীয় ধাপের ২১ জনের চূড়ান্ত ক্যাম্পে তাঁর আর জায়গা হয়নি। এই ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার পরই তীব্র মানসিক ট্রমা থেকে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা চালান বলে নিজেই নিশ্চিত করেছেন। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) এই ঘটনার পর অচেতন অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং গত রোববার তাঁর জ্ঞান ফেরে।

শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় রোববার রাতেই ইশমাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। গণমাধ্যমের কাছে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে এই নারী ক্রিকেটার বলেন, “আমাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা হিসেবে ফিটনেসের সমস্যার কথা বলা হয়েছে। গোড়ালিতে একটা পুরোনো ইনজুরি থাকলেও আমি খেলার জন্য সম্পূর্ণ ফিট ছিলাম। কিন্তু তারা দাবি করেছে, এই ইনজুরি নিয়ে আমি নাকি পরের ক্যাম্পের জন্য প্রস্তুত নই। দীর্ঘদিন ধরে আমি দলের ভেতর নানা নোংরা পরিস্থিতির শিকার হচ্ছি।”

ক্রিকেটের প্রতি নিজের আবেগের কথা জানাতে গিয়ে ইশমা বলেন, “শারীরিকভাবে এখনও অসুস্থতা রয়েছে, রোববার রাতে বাসায় এসেছি। আমি ক্রিকেটকে ভালোবেসে খেলাটা খেলেছি। কখনো চিন্তা করিনি এখান থেকে কত টাকা ইনকাম করব। ক্রিকেটকে আমি এতটাই ভালোবাসি যে এই অন্যায় বাদ পড়াটা কোনোভাবেই নিতে পারছিলাম না। আমার কষ্টের জায়গা আরও একটা আছে—জাতীয় দলে আমার যে অভিষেক হয়েছিল, সেই অভিষেকের একটা ছবি পর্যন্ত আমার কাছে নেই।”

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা এখনও বিস্তারিত অবগত নন। তবে বিসিবির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, মূলত ফিটনেস ইস্যুর কারণেই ইশমার নাম চূড়ান্ত ক্যাম্পের তালিকায় রাখা হয়নি।

২৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সিতে তিনটি ওয়ানডে ও চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তিনি একজন চেনা মুখ। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের ভেতরের রাজনীতি ও ফিটনেস বিতর্ক যেভাবে একজন ক্রিকেটারকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে, তা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

মন্তব্য করুন