নীতীশের চোটে ভারতের অলরাউন্ডার সংকট আরও গভীর

আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের আগে একের পর এক চোট ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা হয়ে দেখা দিয়েছে। তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া আগেই ইনজুরির কারণে দুই সফর থেকেই ছিটকে যাওয়ায় নির্বাচকদের বিকল্প পরিকল্পনা সাজাতে হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে তরুণ অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডিকে ঘিরে নতুন আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাঁ পায়ের চোট পুরোপুরি না সারায় তিনিও আসন্ন দুই সফরে খেলতে পারবেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে সফর শুরুর আগেই ভারতের অলরাউন্ডার বিভাগে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নীতীশের ছিটকে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি, তবু দল-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য বলছে, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে তাঁর খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে দেখা গেছে, বর্তমান অবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরলে চোট আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি এড়াতেই তাঁকে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নীতীশের এই চোটের শুরু আফগানিস্তানের বিপক্ষে ধর্মশালায় অনুষ্ঠিত প্রথম একদিনের ম্যাচে। বোলিংয়ের সময় বাঁ পায়ে অস্বস্তি অনুভব করার পর টিম ম্যানেজমেন্ট সতর্কতা হিসেবে দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁকে বিশ্রামে রাখে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, অল্প কয়েক দিনের বিশ্রামেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

বিশ্রামের পর চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আবারও দলে ফেরেন নীতীশ। সেই ম্যাচে তিনি ছয় ওভার বল করে ৪২ রান দেন। তবে ম্যাচ শেষে একই স্থানে আবারও ব্যথা অনুভব করেন। পরবর্তী মেডিকেল পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে আগের চোট সম্পূর্ণ সারেনি। এরপরই তাঁকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি দিয়ে পুনর্বাসন কর্মসূচিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এখন অন্তত এক মাস বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেন্টার অব এক্সেলেন্সে কাটাতে হবে এই অলরাউন্ডারকে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং ফিটনেস প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে তাঁর পুনর্বাসন সম্পন্ন হবে। শক্তি, সহনশীলতা ও ম্যাচ ফিটনেসের সব পরীক্ষা সফলভাবে পাস করার পরই তাঁকে মাঠে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে।

নীতীশের অনুপস্থিতি ভারতের দলীয় ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। আধুনিক সীমিত ওভারের ক্রিকেটে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের গুরুত্ব অনেক বেশি। ব্যাট হাতে কার্যকর অবদান রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কয়েক ওভার বল করার সক্ষমতা দলকে অতিরিক্ত নমনীয়তা দেয়। এই ধরনের ক্রিকেটার থাকলে অধিনায়ক একাদশ সাজানো থেকে শুরু করে ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে কৌশল পরিবর্তনের বাড়তি সুযোগ পান। হার্দিক পান্ডিয়া ও নীতীশ কুমার রেড্ডি—দুই সম্ভাবনাময় অলরাউন্ডারকে একসঙ্গে হারানোয় ভারতের নির্বাচকদের সামনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

ভারতের সামনে অপেক্ষা করছে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি। প্রথমে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং সেই সিরিজ শেষ হলে তিন ম্যাচের একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ আয়োজন করা হবে। টানা এই সফরে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ভারসাম্য ধরে রাখা টিম ম্যানেজমেন্টের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

ভারতীয় ক্রিকেটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে ইনজুরির সমস্যা নতুন নয়। বড় টুর্নামেন্ট কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সিরিজের আগে একাধিক ক্রিকেটারের চোটে পড়ার ঘটনা দল নির্বাচনের পাশাপাশি কৌশল নির্ধারণেও প্রভাব ফেলেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এখন খেলোয়াড়দের কর্মভার নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং বৈজ্ঞানিক ফিটনেস ব্যবস্থাপনার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ মৌসুমজুড়ে ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা যায়।

অন্যদিকে, নীতীশ কুমার রেড্ডির মূল লক্ষ্য এখন দ্রুত নয়, বরং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরা। পুনর্বাসনের প্রতিটি ধাপ সফলভাবে শেষ করতে পারলে ভারতের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সূচি, শ্রীলঙ্কা সফরের আগে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। চিকিৎসক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ার সুরক্ষিত রাখাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের আগে একের পর এক চোট ভারতের পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে অলরাউন্ডার বিভাগের সংকট টিম ম্যানেজমেন্টকে নতুন করে দল গঠন ও কৌশল নির্ধারণের চিন্তায় ফেলেছে। এখন নির্বাচকদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তোলা, যারা গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সফরগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সক্ষম হবে।

মন্তব্য করুন