শৃঙ্খলিত বোলিংয়ে বাংলাদেশের দাপট

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক উত্তেজনাপূর্ণ বিশ ওভারের সংক্ষিপ্ত ক্রিকেট ম্যাচে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র একশ বত্রিশ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপের মধ্যে থাকে সফরকারীরা এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায়।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত উনিশ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে একশ একত্রিশ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের শুরু কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও মধ্যভাগে ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ উনত্রিশ রান করেন মেহেদি হাসান, মাত্র বাইশ বলে চারটি চার হাঁকিয়ে তিনি দলের ইনিংসকে কিছুটা গতি দেন। ওপেনার সাইফ হাসান করেন বিশ রান। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস তিনটি করে উইকেট নেন, আর ম্যাট রেনশ নেন দুটি উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে। মাত্র তেরো রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা এবং আটত্রিশ রানে পড়ে দ্বিতীয় উইকেট। বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম জশ ইংলিসকে বোল্ড করে প্রথম সাফল্য এনে দেন। এরপর মিচেল মার্শ মোস্তাফিজুর রহমানের নিখুঁত ডেলিভারিতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান।

তৃতীয় উইকেটে কুপার কনোলি ও টিম ডেভিড কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তারা আঠাশ বলে চল্লিশ রানের জুটি গড়লেও তা ম্যাচে ফিরতে যথেষ্ট হয়নি। কুপার কনোলি আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সাইত্রিশ বলে সাতচল্লিশ রান করেন, চারটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে। তবে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের শিকার হয়ে তিনি ফিরে গেলে সেই গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভেঙে যায়।

এরপর দ্রুতই ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। মাত্র এগারো রানের ব্যবধানে টিম ডেভিডও আউট হন। তিনি ষোল বলে বিশ রান করেন এবং মেহেদি হাসানের বলে ফেরেন। চতুর্থ উইকেট পতনের পর তারা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি এবং ঊননব্বই রানে কার্যত হার মানে সফরকারীরা।

বাংলাদেশের বোলাররা পুরো ইনিংস জুড়েই অসাধারণ নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেন্থ বজায় রাখেন। বিশেষ করে মধ্য ওভারে তাদের চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা ম্যাচের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা বড় শট খেলতে গিয়ে নিয়মিত ভুল করেন এবং দ্রুত উইকেট হারাতে থাকেন।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস পতনের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান

উইকেটব্যাটসম্যানরানআউট হওয়ার ধরনবোলার
১মজশ ইংলিসবোল্ডশরিফুল ইসলাম
২য়মিচেল মার্শক্যাচমোস্তাফিজুর রহমান
৩য়কুপার কনোলি৪৭আউটআব্দুল গাফফার সাকলাইন
৪র্থটিম ডেভিড২০আউটমেহেদি হাসান

ম্যাচের শেষ ভাগে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ধারাবাহিক চাপ এবং দ্রুত উইকেট পতনের কারণে তারা লক্ষ্য তাড়া করার মতো কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে যায় এবং তারা এক স্মরণীয় জয়ের পথে এগিয়ে যায়।

মন্তব্য করুন