হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়েকে হয়তো দুই শর নিচেই আটকে রাখা যেত। ম্যাচের শুরুটা যেভাবে হয়েছিল, তাতে সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে ক্রিকেটবোদ্ধারা তেমন আশাই করছিলেন। তবে ওপেনার বেন কারানের দায়িত্বশীল ও অপরাজিত এক সেঞ্চুরির ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে লড়াকু পুঁজি জমা করেছে স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টিকে থাকার এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৪৮ রান।
আজ বৃহস্পতিবার সিরিজের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে একদমই সময় নেননি টাইগার বোলাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই জিম্বাবুয়ে শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ। তাঁর দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে কোনো রান করার আগেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নিজের দ্বিতীয় ওভারে জিম্বাবুয়ের আরেক ব্যাটার ইনোসেন্ট কাইয়াকেও বোল্ড করেন তাসকিন। মাত্র ১১ রান করে কাইয়া বিদায় নিলে শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের এই দাপট আরও বাড়ান তরুণ গতি তারকা নাহিদ রানা। ম্যাচের নবম ওভারে জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্রেগ আরভিনকে ব্যক্তিগত ৯ রানে আউট করেন তিনি। ফলে মাত্র ৪৫ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে তীব্র ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
দলীয় বিপর্যয়ের মুখে ক্রিজে এসে সুবিধা করতে পারেননি অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও। আগের ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার দেখা বাংলাদেশ দলের বোলাররা আজ কোনো ঢিলেমি দেখাননি। জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনে ধস নামাতে বল হাতে নিজেই দায়িত্ব তুলে নেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি একে একে ফিরিয়ে দেন সেট হতে যাওয়া ওয়েসলি মাধাবীর এবং বিপজ্জনক সিকান্দার রাজাকে। এরপর লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন এসে দ্রুতই ক্লাইভ মাদান্দেকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখালে স্বাগতিকদের বড় স্কোরের স্বপ্ন ফিকে হতে শুরু করে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে একপর্যায়ে অল্প রানেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে তারা।
তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশকে হতাশ করতে থাকেন ওপেনার বেন কারান। দলের অন্য ব্যাটাররা যেখানে থিতু হতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন, সেখানে কারান দেখিয়েছেন অসীম ধৈর্য ও চমৎকার ব্যাটিং চাতুর্য। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের চমৎকার এক সেঞ্চুরি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১১১ রানের এক অনবদ্য ইনিংস। শেষ দিকে বেন কারানকে যোগ্য সঙ্গ দেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটার ব্র্যাড ইভান্স। এই দুজন মিলে দলের ইনিংস মেরামত করার পাশাপাশি দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ব্র্যাড ইভান্স খেলেন ৫৮ রানের একটি কার্যকরী ও অপরাজিত ইনিংস। মূলত এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির ওপর ভর করেই লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট শিকার করেন। সিরিজ বাঁচাতে হলে এখন বাংলাদেশের ব্যাটারদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
![সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ২৪৮ রানের লক্ষ্য 1 সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ২৪৮ রানের লক্ষ্য 1 Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://test.sportsgoln.com/wp-content/uploads/2026/07/সিরিজ-বাঁচানোর-ম্যাচে-বাংলাদেশের-সামনে-২৪৮-রানের-লক্ষ্য-1.png)