রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে গ্রুপপর্বের যাত্রা শুরু থেকেই বাংলাদেশ ‘এ’ দল ছিল ছন্দময়। প্রথম দুই ম্যাচে বড় জয়ে দল যখন সেমিফাইনাল স্পট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে, তখন শ্রীলঙ্কা ‘এ’-র বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি ছিল অনেকটা পরীক্ষামূলক সুযোগ—ব্যাটিং ও বোলিং ইউনিটের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যাচাইয়ের লড়াই। তবে এই ম্যাচে ৬ রানের সংকীর্ণ হার দলকে মনে করিয়ে দিল, সামান্য ভুলও নক–আউট ম্যাচে বড় মূল্য দিতে পারে।
শ্রীলঙ্কার ১৫৯ রানের ইনিংস একাই দাঁড় করিয়েছেন সাহান আরিচিগে—৪৯ বলে ৬৯ রানের ইনিংসে তিনি আক্ষেপ রেখেছেন কেবল এক রানের। বাংলাদেশ বোলাররা মাঝে ভালো চাপ তৈরি করলেও শেষ পাঁচ ওভারে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারাটা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস শুরু হয় আগ্রাসী ভঙ্গিতে। হাবিবুর রহমান দ্রুত ২৭ রান করে দলের স্কোর দ্রুত ওপরে তুললেও তাঁর আউট হওয়াই গতি কমিয়ে দেয়। ওপেনার জিশানও ১৭ রানের পর থিতু হতে না পারায় চাপ বাড়তে থাকে। মধ্য–ক্রমের জাওয়াদ (২৬) ও আকবর আলী (২৫) দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ইনিংস বড় করার মানসিক দৃঢ়তা দেখা যায়নি কারও মধ্যে।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় শেষ ওভারে। বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৮ রান—টি টোয়েন্টির মানদণ্ডে যা অসম্ভব নয়। ইয়াসির আলীর তৃতীয় বলের ছক্কা ম্যাচে নতুন আশা জাগালেও বাকি চার বল ডট হয়ে সব সম্ভাবনা নিভে যায়। শেষ বলে রানআউট হয়ে তিনি ফিরলে ১৫৩/৬ এ সমাপ্ত হয় বাংলাদেশ ‘এ’-র সংগ্রাম।
তবু ইতিবাচক দিক হলো—এই পরাজয় পয়েন্ট তালিকায় দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের সমান পয়েন্ট হলেও শ্রেষ্ঠ রান রেটের সুবাদে গ্রুপসেরা হয়েই শেষ চারে গেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালকে এখন অনেকেই টুর্নামেন্ট–নির্ধারক ম্যাচ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ম্যাচে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হবে মাঝ–ওভারের ব্যাটিং স্থিতি ধরে রাখা ও ডেথ–ওভারে বোলিংয়ের শৃঙ্খলা বাড়ানো। কারণ শেষ মুহূর্তের দুর্বলতা এবার যেমন হারের কারণ হয়েছে, তেমনি সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এখন অপেক্ষা শুক্রবারের জন্য—যেখানে ভারত–বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবারও নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছে।
