প্রমাণ ছাড়াই সাত ক্রিকেটারকে বিপিএল নিলাম থেকে বাদ?

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিলামের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই সাতজন ক্রিকেটারের বাদ পড়া ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়। অভিযোগ উঠেছে, প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের বিপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বলছে, সিদ্ধান্তটি এসেছে ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ বা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ শনাক্ত হওয়ার পর, যা লিগের সুরক্ষা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজন ছিল।

বিসিবির আজকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এ মাসের শুরুতে পেয়েছেন গত আসরের পর গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন। ওই কমিটি প্রায় আট মাস ধরে কাজ করেছে, ৬০ জনের বেশি সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং ৯০০ পৃষ্ঠার বেশি তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এরপর বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে দেওয়া হয় এই প্রতিবেদনটির গভীরতর তদন্তের দায়িত্ব।

ইন্টিগ্রিটি ইউনিট বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে কিছু নির্দিষ্ট সুপারিশ দেয়—যার অন্যতম ছিল সন্দেহজনক আচরণ পাওয়া খেলোয়াড়দের এ বছরের বিপিএলে ‘আমন্ত্রণ’ না জানানো। যদিও কোনো খেলোয়াড়কে দোষী ঘোষণা করা হয়নি, তবে বিসিবির ব্যাখ্যা—জিরো টলারেন্স নীতি অনুসারে ঝুঁকিপূর্ণ কাউকে লিগে রাখা যাবে না।

গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান সাংবাদিকদের বলেন,
“প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যাবে না। কিন্তু রেড ফ্ল্যাগ থাকলে আমরা ঝুঁকি নেব না। ক্রিকেটারকে নিলামে নিতেই হবে—এমন নিয়ম নেই।”

তিনি আরও জানান, সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র বিপিএলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অন্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের অংশ নিতে বাধা নেই। তবে বাদ পড়া খেলোয়াড়রা অভিযোগ করেছেন—কোনো প্রমাণ দেখানো ছাড়াই তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথাও ভাবছেন।

বিসিবির প্রাথমিক তালিকায় থাকা সাতজন স্থানীয় খেলোয়াড়—এনামুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, সানজামুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও শফিউল ইসলাম—চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি। বিসিবি তাঁদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি, এটিকে ‘সংবেদনশীলতা বজায় রাখার প্রয়াস’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন