দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ক্রিকেটপ্রেমীরা এক চমকপ্রদ মুহূর্তের সাক্ষী হন। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান আইএলটি–২০-এ এমআই এমিরেটসের বিপক্ষে এক ওভারে তিনটি উইকেট শিকার করে পুরো ম্যাচকে নাটকীয়ভাবে ঘুরিয়ে দেন। মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিনি রশিদ খান, টম ব্যান্টন ও এএম গজনফরকে আউট করে দর্শক ও প্রতিপক্ষ উভয়কে স্তব্ধ করে দেন।
মোস্তাফিজের ইনিংসের শুরুটা সরল ছিল না। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিং করতে এসে জনি বেয়ারস্টোর দুটি চার খেয়ে ১০ রান দেন। যদিও এটি তাকে কিছুটা চাপে ফেলেছিল, ১৬তম ওভারে ফেরার পর মাত্র ৬ রান খরচ করে কামিন্দু মেন্ডিস ও ব্যান্টনকে নিয়ন্ত্রণে আনে। এই প্রস্তুতি ছিল পরবর্তী নাটকীয়তার জন্য।
১৮তম ওভারটি মোস্তাফিজের জন্য সত্যিই স্মরণীয় হয়ে ওঠে। প্রথম বলটি অফ কাটার, যা রশিদ খান মিড-অফে দাসুন শানাকার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। তৃতীয় বলটি ছিল স্লোয়ার, ব্যান্টন মিডউইকেটে ক্যাচ দেন ডু প্লেয়ার-এর হাতে। পঞ্চম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে গিয়ে গজনফর স্লিপে ক্যাচ দেন ডু প্লেয়ার-এর হাতে। মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিনটি উইকেট তুলে মোস্তাফিজ ইনিংসের গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি পাল্টে দেন।
ম্যাচের শেষ দিকে আরও উইকেট নেওয়ার সুযোগ ছিল, তবে চতুর্থ বলে রোমারিও শেফার্ড বাউন্ডারিতে ক্যাচ ফেলেন। চূড়ান্ত চার ওভারে মোস্তাফিজের বোলিং আউটপুট হলো ৩৪ রানে ৩ উইকেট। এই পারফরম্যান্সে তিনি শুধুমাত্র প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ভেঙে দেননি, বরং দলের আত্মবিশ্বাসও জোরদার করেন।
ম্যাচের ফলাফলও মোস্তাফিজের বোলিংয়ের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। এমআই এমিরেটস ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৭ রান সংগ্রহ করে। তাড়া করতে নেমে দুবাই ক্যাপিটালস ২০ ওভারে ১৩০ রানে অলআউট হয়ে ৭ রানে হারে। মোস্তাফিজ নিজে ১ রান করে রান আউট হন, কিন্তু তার বোলিং দলের জন্য ছিল এক বিশাল সাফল্য।
মাঠে দর্শকরা মোস্তাফিজের এই অসাধারণ বোলিংয়ে বিমুগ্ধ হয়ে ওঠেন। অনেক সমালোচক তার বোলিং স্ট্রাটেজি ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশের তরুণ পেসার আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে নিজেকে প্রমাণ করতে থাকলেন এবং দেখালেন যে দ্রুত চিন্তাশক্তি ও নিখুঁত বোলিং কৌশল দিয়ে ম্যাচের রূপ বদলানো সম্ভব।
মোস্তাফিজুর বোলিং পরিসংখ্যান (সংক্ষেপে)
| ওভার | রান | উইকেট | বিশেষ ঘটনা |
|---|---|---|---|
| ২য় | ১০ | ০ | জনি বেয়ারস্টোর ২ চার খাওয়া |
| ১৬তম | ৬ | ০ | কামিন্দু মেন্ডিস ও ব্যান্টন নিয়ন্ত্রণ |
| ১৮তম | ১ | ৩ | রশিদ খান, ব্যান্টন, গজনফর আউট |
| ৪র্থ | ১৬ | ০ | একটি চার, একটি ছয়, একটি মিসড ক্যাচ |
মোস্তাফিজের এই পারফরম্যান্স কেবল তার বোলিং দক্ষতাকে প্রমাণ করে না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থানও শক্তিশালী করে। তরুণ এই পেসার যে কোনো পরিস্থিতিতে চাপ সামলাতে সক্ষম, তা এবারও প্রমাণিত হলো।