মুস্তাফিজের চোটে সাইফউদ্দিন, ফিরলেন তাসকিন

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ইনজুরির কারণে বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ছিটকে যাওয়ায় তার জায়গায় দলে ফিরেছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। একই সময়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদও জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা পরিবর্তন করে জাতীয় দলের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় বাংলাদেশের পেস আক্রমণ আরও শক্তিশালী হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মুস্তাফিজুর রহমানের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে। একই সমস্যার কারণে তিনি ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও খেলতে পারেননি। দলের মেডিকেল বিভাগের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তিনি শুধু তৃতীয় ওয়ানডে থেকেই নন, পুরো টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেও ছিটকে গেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, জিম্বাবুয়ে সফর শেষ হওয়ার আগেই তিনি দেশে ফিরে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করবেন। তাকে দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনাই এখন চিকিৎসক ও ফিজিও দলের প্রধান লক্ষ্য।

মুস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে নতুন সুযোগ পেয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দীর্ঘ সময় পর আবারও ওয়ানডে দলে ডাক পাওয়া এই অলরাউন্ডার সবশেষ বাংলাদেশের হয়ে ২০২১ সালের জুলাইয়ে ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন। এরপর একাধিক ইনজুরি, অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। মাঝেমধ্যে টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার আলোচনা হলেও ওয়ানডে দলে এই প্রত্যাবর্তন তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

সাইফউদ্দিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দুই বিভাগেই অবদান রাখার সামর্থ্য। নতুন বলে সুইং করানোর পাশাপাশি তিনি নিচের সারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতে পারেন। ফলে দল চাইলে অতিরিক্ত একজন বোলারের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েরও একটি বিকল্প পেতে পারে। তবে হারারেতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ওয়ানডের একাদশে তিনি থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। উইকেটের অবস্থা, প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ এবং ম্যাচ পরিকল্পনা বিবেচনা করেই শেষ মুহূর্তে একাদশ নির্ধারণ করবে টিম ম্যানেজমেন্ট।

অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির খবর তাসকিন আহমেদের দলে ফেরা। এর আগে তিনি লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কারণে জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন। কিন্তু মুস্তাফিজের ইনজুরির পর পেস আক্রমণে অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচকদের অনুরোধে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তিনি। জাতীয় দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে অভিজ্ঞতা ও গতি—দুই দিকেই বাড়তি শক্তি যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাসকিন দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য পেসার। নতুন বলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা, মাঝের ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা এবং ইনিংসের শেষ দিকে ইয়র্কার ও গতির সমন্বয়ে রান আটকে রাখার দক্ষতা তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত করেছে। তার প্রত্যাবর্তন তরুণ পেসারদের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ইনজুরিতে থাকা অধিনায়ক লিটন দাসের পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে নতুন কোনো ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। নির্বাচক প্যানেল বিদ্যমান স্কোয়াডের ওপরই আস্থা রেখেছে। ফলে বর্তমান খেলোয়াড়দের নিয়েই টি-টোয়েন্টি সিরিজের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য জিম্বাবুয়ে সফরের ওয়ানডে অধ্যায় ইতোমধ্যেই হতাশাজনক হয়ে উঠেছে। প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ আগেই হাতছাড়া করেছে টাইগাররা। তাই ১১ জুলাই হারারেতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে এখন কেবল নিয়মরক্ষার ম্যাচ নয়; এটি আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারেরও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই ম্যাচে জয় পেলে অন্তত ওয়ানডে পর্ব ইতিবাচকভাবে শেষ করে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নতুন উদ্যমে নামার সুযোগ তৈরি হবে।

ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই বুলাওয়েতে। সেই সিরিজে তাসকিন আহমেদের অভিজ্ঞতা, সাইফউদ্দিনের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং অন্য পেসারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দলগত এই পরিবর্তনের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে মাঠের পারফরম্যান্সেই। ইনজুরির ধাক্কা সামলে বাংলাদেশ কত দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় কি না, এখন সেটিই ক্রিকেটপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন