গুয়াহাটি টেস্টে ভারতের ব্যাটসম্যানরা দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনারদের বিপক্ষে একেবারেই অসহায় অবস্থায় ছিল। ৪০৮ রানের হারে ভারত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঘরের মাটিতে সিরিজ হেরে গেছে। এই পরাজয় ভারতের ব্যাটিং ইউনিটের স্পিন খেলার দুর্বলতা আরও প্রকট করেছে।
ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলেছেন, “ভারতের ব্যাটিং এখন স্পিনের বিরুদ্ধে বিশ্বের মধ্যে অন্যতম দুর্বল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিরপেক্ষ কিউরেটরদের নিয়ন্ত্রণ আমাদের স্পিন খেলার অভ্যাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কিউরেটররা খারাপ উইকেট তৈরির প্রবণতা কমানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু এর ফলে ব্যাটসম্যানরা স্পিনের চাপ মোকাবেলায় যথাযথভাবে অভ্যস্ত হচ্ছে না।”
অশ্বিন আরও ব্যাখ্যা করেছেন, বিদেশে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ভালো খেলছে কারণ সেখানে স্পিনাররা তেমন চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না। কিন্তু ঘরের মাটিতে প্রতিপক্ষ স্পিনারদের সামলানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “স্পিনকে কেবল সুইপ বা রিভার্স সুইপ দিয়ে মোকাবেলা করা যথেষ্ট নয়। প্রতিটি শট পরিকল্পিতভাবে খেলতে হবে এবং ডিফেন্স ঠিক রাখতে হবে।”
সাইমন হারমার দুই ম্যাচে ১৭ উইকেট নেন, আর কেশব মহারাজ ৬ উইকেটের সাহায্যে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছেন। অশ্বিনের মতে, টেম্বা বাভুমার দল টেস্টের প্রতিটি সেশন ৮০ রানের বেশি সংগ্রহ করেছে এবং ভারতকে শেষ ইনিংসে তাড়া করতে বাধ্য করেছে। এটি পুরোপুরি পরিকল্পিত ও দক্ষ টেস্ট ক্রিকেটের উদাহরণ।
ভারত এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নামবে। প্রথম ওয়ানডে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত হবে, এরপর পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজগুলো ভারতের স্পিন মোকাবেলার দক্ষতা যাচাইয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
